দক্ষিণ হাওড়া আসনের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক নন্দীতা চৌধুরী-কে নির্বাচন কমিশন (EC) তাঁর যোগ্যতা প্রমাণের উদ্দেশ্যে ৪ জানুয়ারি হাওড়া ময়দানের জেলা লাইব্রেরি হলে শোনানির জন্য সমন জারি করেছে। এই নির্দেশনা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চৌধুরী ও তাঁর দল তা রাজনৈতিক কারণেই করা হচ্ছে বলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, এটি আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিরোধীদের ইন্ধনে করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক হয়রানির একটি অংশ।
নন্দীতা চৌধুরী জানান যে, কমিশনের কাছে তিনি এবং তাঁর সহকারী পূর্বেই প্রয়োজনীয় সব দলিলপত্র জমা দিয়েছিলেন। সেই সত্ত্বেও কমিশন ব্যক্তিগতভাবে তাঁর বাড়িতে গিয়ে একটি শোনানির নোটিশ পাঠিয়েছে, যার মধ্যে স্পষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে তাঁকে বুথ স্তরের কর্মকর্তা (BLO)-এর মাধ্যমে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যা তিনি অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত ও অবাঞ্ছিত বলে উল্লেখ করেছেন।
চৌধুরী আরও বলেন, “আমি একজন মানুষ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে জনতার মANDAT পেয়েছি। এই সমন আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা; তবে তৃণমূল কংগ্রেস ও আমাদের সমর্থকরা এতে প্রভাবিত হবেন না।” তিনি আরও দাবি করেন, এই ধরনের কাজ বিরোধী দলীয় শক্তি-র দ্বারা পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার একটি অংশ। তাঁর মতে, এই ঘটনাটি পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে নেওয়া হয়েছে।
এই সমন প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা কারণ প্রকাশ করা হয়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কমিশনের এই পদক্ষেপ শীর্ষ রাজনৈতিক পর্যায়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে এবং রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। আসন্ন ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই ধরনের অনাস্থা ও প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে বলে মনে করা হচ্ছে।

